হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে আইনি লড়াই ভারতে

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬

হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে আইনি লড়াই ভারতে
ছবি : দ্য হিন্দু

ভারতে গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এখন আইনের দৃষ্টিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিযোগিতা কমিশন হোয়াটসঅ্যাপকে নির্দেশ দিয়েছে, অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ার করার জন্য বিজ্ঞাপন সেবা ব্যবহারকে আর ব্যবহারকারীর প্রতি শর্ত হিসেবে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫.৪ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

২০২১ সালের হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি করে। নতুন নীতিতে বলা হয়েছিল, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যেতে হলে ব্যবহারকারীদের তথ্য মেটার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ারে সম্মতি দিতে হবে। সমালোচকরা একে ‘গ্রহণ করো অথবা ছেড়ে দাও’ শর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৬ সালের নীতিতে ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার থেকে সরানোর সুযোগ পেতেন। নতুন নীতিতে সেই বিকল্প আর রাখা হয়নি। অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার জন্য শর্ত মেনে নিতে হয়েছে।

ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশন ২০২১ সালের মার্চে হোয়াটসঅ্যাপের নীতির ওপর তদন্ত শুরু করে। কমিশনের অভিযোগ ছিল, হোয়াটসঅ্যাপ বাজারে প্রভাবশালী অবস্থান ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের তথ্য শেয়ারে বাধ্য করছে। এটি প্রতিযোগিতাবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে কমিশন মেটাকে জরিমানা করে। পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর তথ্য মেটার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নীতিমালায় তথ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করতে বলা হয়।

মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়াতে পৌঁছায়। শুনানিতে আদালত ‘গ্রহণ করো অথবা ছেড়ে দাও’ পদ্ধতির সমালোচনা করে। বিচারপতিরা বলেন, ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে সংবিধানপ্রদত্ত গোপনীয়তার অধিকারকে হালকাভাবে দেখা যাবে না। আদালত সম্মতিভিত্তিক কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দেয়।

এরপর হোয়াটসঅ্যাপ হলফনামা দেয়, যেখানে বলা হয়, ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য ভাগাভাগির ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবেন। কেউ চাইলে বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত তথ্য ভাগাভাগি থেকে সরেও যেতে পারবেন এবং তবুও সেবা ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন। প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর বার্তা প্রান্ত থেকে প্রান্ত এনক্রিপশন ব্যবস্থায় সুরক্ষিত থাকে। ভবিষ্যতের নীতিমালাও আদালতের নির্দেশনা মেনে প্রণয়ন করা হবে।

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৮৫ কোটি। জনপ্রিয়তায় এটি শীর্ষে। বিকল্প হিসেবে সিগনাল ও টেলিগ্রাম থাকলেও তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কম।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই মামলার রায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নীতির বিষয় নয়। এটি নির্ধারণ করবে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার ও বিজ্ঞাপনভিত্তিক আয় কতটা নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখবে। একাংশের মতে, বিপুল ব্যবহারকারীভিত্তি থাকা প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যরা মনে করেন, বিজ্ঞাপন বৈধ ব্যবসা পদ্ধতি এবং ব্যবহারকারীরা চাইলে বিকল্প সেবা বেছে নিতে পারেন।

চূড়ান্ত রায় এখনও হয়নি। তবে এই মামলা ভারতের ডিজিটাল অধিকার, গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন