ব্যক্তিগত বার্তার নিরাপত্তায় পরিবর্তন আনছে ইনস্টাগ্রাম

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৩

ব্যক্তিগত বার্তার নিরাপত্তায় পরিবর্তন আনছে ইনস্টাগ্রাম
ছবি : এনডিটিভি ও ব্রিটানিকা ডটকম

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তন আসছে। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। আগামী মে মাস থেকে প্ল্যাটফর্মটি তাদের এনক্রিপ্টেড চ্যাট সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে অনেকের ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম তাদের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা বন্ধ করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি মেটা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৮ মে থেকে ইনস্টাগ্রামের সরাসরি বার্তায় আর এই এনক্রিপশন ব্যবস্থা থাকবে না।

এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন এমন একটি নিরাপত্তা প্রযুক্তি, যেখানে কেবল বার্তা পাঠানো ব্যক্তি এবং গ্রহণকারীই বার্তাটি পড়তে পারেন। এমনকি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও সাধারণভাবে বার্তার ভেতরের তথ্য দেখতে পারে না।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের তথ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম প্রথম এনক্রিপ্টেড বার্তা চালু করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। এটি ছিল মেটার বিভিন্ন অ্যাপে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

তবে এখন প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরাসরি বার্তা থেকে এই সুবিধা সরিয়ে ফেলবে। মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তুলনামূলকভাবে খুব কম ব্যবহারকারী এনক্রিপ্টেড চ্যাট চালু করেছিলেন। কম ব্যবহারের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ইনস্টাগ্রামে পাঠানো বার্তা আর এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকবে না। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে মেটা প্রয়োজনে বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারবে। যেমন প্ল্যাটফর্মে অনিয়ম বা ক্ষতিকর বিষয়বস্তু শনাক্ত করার ক্ষেত্রে।

যেসব ব্যবহারকারীর ইনস্টাগ্রামে এনক্রিপ্টেড কথোপকথন রয়েছে, তাদের অ্যাপের ভেতরেই সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে যেসব বার্তা বা ছবি সংরক্ষণ করতে চান, সেগুলো ডাউনলোড করে রাখার পরামর্শও দেওয়া হবে।

এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন অনলাইনে ব্যক্তিগত যোগাযোগ সুরক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়গুলোর একটি। এটি হ্যাকার বা নজরদারি থেকে ব্যবহারকারীর বার্তা রক্ষা করতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে কিছু সরকার এবং শিশু নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংগঠন মনে করে, শক্তিশালী এনক্রিপশন থাকলে অবৈধ কার্যক্রম বা ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়।

মেটার আরেক জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে ইতোমধ্যে ডিফল্টভাবে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন চালু রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, শক্তিশালী গোপনীয়তা চান এমন ব্যবহারকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের দিকেই উৎসাহিত করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত মেটার মেসেজিং কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, সেই প্রশ্নও আবার সামনে এসেছে।

সূত্র : এনডিটিভি

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন