আবারও ইনস্টাগ্রামের ধীরগতিতে বিরক্ত তরুণ ব্যবহারকারীরা

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০

আবারও ইনস্টাগ্রামের ধীরগতিতে বিরক্ত তরুণ ব্যবহারকারীরা
ছবি : ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য সমস্যাও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছবি, স্টোরি বা বার্তা ঠিকমতো না খুললে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুতই অস্বস্তি তৈরি হয়। এবারও ঠিক তেমনই অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা। তবে এটি বড় ধরনের বৈশ্বিক বিভ্রাট নয়, বরং সীমিত পরিসরের একটি প্রযুক্তিগত সমস্যাই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোররাত থেকে সমস্যা শুরু হয় বলে জানায় রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণকারী সেবা ডাউনডিটেক্টর। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী রাত ২টা ১৪ থেকে ২টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে অভিযোগ বাড়তে থাকে।

ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, অ্যাপ খুললেও ঠিকমতো লোড হচ্ছে না, ফিড রিফ্রেশ করতে গিয়ে আটকে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ত্রুটির বার্তা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বার্তা আদান-প্রদান করতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে মোবাইল অ্যাপ নিয়ে, যা মোট সমস্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ। এর পাশাপাশি সার্ভার সংযোগ ও পোস্ট প্রকাশে জটিলতার কথাও উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বড় ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয় নয়। বরং নির্দিষ্ট অঞ্চল, ডিভাইস বা পেছনের প্রযুক্তিগত হালনাগাদজনিত সাময়িক সমস্যার ফল হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ওয়েব সংস্করণ তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করছে, কিন্তু মোবাইল অ্যাপে সমস্যা বেশি। আবার কারও ক্ষেত্রে উল্টো চিত্রও দেখা গেছে।

চলতি বছরজুড়েই ইনস্টাগ্রামে এমন ছোট-বড় সমস্যার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। গত ১১ মার্চ বড় ধরনের বিভ্রাটে ১২ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। তখন বার্তা পাঠানো, ফিড দেখা এবং পোস্ট করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ফিনিক্স শহরে এর প্রভাব বেশি ছিল।

বর্তমান সমস্যায় ব্যবহারকারীরা ফিড রিফ্রেশে সমস্যা, বার্তা খুলতে না পারা, স্টোরি আপলোডে দেরি হওয়া এবং ‘লোড করা যাচ্ছে না’ ধরনের বার্তা দেখার কথা জানিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়াসহ কিছু অঞ্চলেও ধীরগতির অভিযোগ মিলেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রেই অভিযোগের সংখ্যা বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনস্টাগ্রামের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ২০০ কোটির বেশি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও ও বার্তা আদান-প্রদান হয়। এত বড় পরিসরের সেবা পরিচালনার কারণে সফটওয়্যার হালনাগাদ, সার্ভারের চাপ বা নেটওয়ার্ক সমস্যায় মাঝেমধ্যে এমন বিঘ্ন দেখা দিতেই পারে।

এই প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনা করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বড় ধরনের সমস্যা না হলে তারা সাধারণত দ্রুত সমাধান করে এবং প্রকাশ্যে খুব বেশি ব্যাখ্যা দেয় না।

সমস্যা দেখা দিলে কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে। যেমন অ্যাপ বন্ধ করে আবার চালু করা, ওয়াই-ফাই ও মোবাইল ডেটা পরিবর্তন করা, ক্যাশ পরিষ্কার করা, সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা বা ডিভাইস পুনরায় চালু করা। প্রয়োজনে ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করে সমস্যাটি অ্যাপনির্ভর কি না তা যাচাই করা যেতে পারে।

এই ধরনের বিঘ্ন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। সময়মতো পোস্ট বা স্টোরি দিতে না পারলে আয় ও যোগাযোগে প্রভাব পড়ে। তাই অনেকেই বিকল্প হিসেবে অন্যান্য ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম বা ই-মেইলের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছেন।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সমস্যার সঙ্গে কোনো সাইবার হামলার সম্পর্ক নেই। এটি স্বাভাবিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলেই মনে হচ্ছে। সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন সমস্যা ঠিক হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে, ইনস্টাগ্রামে সাময়িক এই ধীরগতি ও ত্রুটি ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্রুতই সেবা স্বাভাবিক হয়ে আসে। ভবিষ্যতে নতুন সুবিধা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ফিচার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন প্ল্যাটফর্মের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সূত্র : ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন